জয়পুরহাটে কৃষক আলুর ধাক্কা কাটানোর আগেই বোরো চাষে বড় লোকসান
মোঃ আব্দুল মতিন প্রধান
জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধি
জয়পুরহাটের কৃষকরা আলুর চরম লোকসান কাটিয়ে ওঠার আগেই বোরো ধান চাষ করে নতুন করে বড় ধরণের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন । বাজারে ধানের যে দাম রয়েছে, তা দিয়ে কোনোভাবেই বোরো চাষের উচ্চ উৎপাদন খরচ মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রি-২৯ ধান প্রতি মণ শুকনা ১০০০ হাজার ২০০ টাকা, ব্রি-১৬ ও ব্রি-১৭ জাতের শুকনা ধান বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ মাত্র ১ হাজার ৪০০ টাকা, কাটারী চিকন দান ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রয় হচ্ছে অপরদিকে ব্রি-৯০ (সুগন্ধি চিকন) ধান বেচা-কেনা হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ টাকা দরে। এই বাজারমূল্য থাকলেও সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের পেছনে অতিরিক্ত ব্যয় হয়ে যাওয়ায় কৃষকদের পকেট খালিই থাকছে। ফলে হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে ফসল ঘরে তুলেও প্রতি বিঘায় কৃষকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে দুই থেকে তিন হাজার টাকা। উল্লেখ্য, কৃষি বিভাগের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এবার জেলায় ৬৯ হাজার ৬৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যেখানে উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৯৭ হাজার ২০৪ মেট্রিক টন।
ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, এর আগে অসময়ের বৃষ্টির কারণে আলু চাষ করে তারা বড় ধরণের লোকসানের মুখে পড়েছিলেন। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতেই বুকভরা আশা নিয়ে তারা বোরো চাষে নেমেছিলেন। তবে এবার বিঘাপ্রতি চাষের খরচ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা, অথচ বর্তমান বাজারদরে ধান বিক্রি করে সর্বোচ্চ মিলছে ২৮ হাজার টাকা। মূলত ধান কাটা ও মাড়াইয়ের চড়া খরচের কারণেই উৎপাদন ব্যয় আকাশচুম্বী হয়েছে। এক বিঘা জমির ধান কাটতেই শ্রমিকদের দিতে হচ্ছে পাঁচ থেকে আট হাজার টাকা এবং মাড়াইয়ের পেছনে খরচ হচ্ছে আরও ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। বর্গা চাষিদের ক্ষেত্রে এই খরচের অঙ্কটা আরও বেশি। কৃষকদের দাবি—সার, বীজ, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি নিয়ন্ত্রণে থাকলে বিঘাপ্রতি অন্তত দু-এক হাজার টাকা লাভ করা যেত। এভাবে একের পর এক ফসলে লোকসান হতে থাকলে আগামীতে কৃষিকাজ বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।
এ প্রসঙ্গে জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাদিকুল ইসলাম জানান, এবার অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে মাঠে পানি জমে যাওয়ায় আধুনিক হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটা খুব সীমিত পরিমানে সম্ভব হয়েছে । ফলে সম্পূর্ণ শ্রমিকের উপর নির্ভর করতে হওয়ায় মজুরি খরচ অনেক বেড়ে গেছে এবং কৃষকরা ধান প্রক্রিয়াজাত করতে হিমশিম খাচ্ছেন। একই সঙ্গে ধানের কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় কৃষকরা সংকটে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে প্রান্তিক চাষিদের দাবি সরকারি খাদ্য গুদামে যেন কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়া সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে ধান কেনা হয়।
মন্তব্য (0)
সম্পর্কিত সংবাদ
পাঁচবিবি উপজেলার আওলাই ইউনিয়নে বিএনপির নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার শুভ উদ্বোধন
22 Aug 2026
লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে চুরি ছিনতাই কারী সিন্ডিকেট এর হাতে জনগণ জিম্মি
22 Aug 2026
কাজিপুরে যমুনা পার হয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে শ্রদ্ধা নিবেদন
22 Aug 2026
লালমনিরহাটে বখাটেদের আঘাতে আহত- অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী সেই শিক্ষক আরিফুল ইসলামের চির বিদায়
22 Aug 2026
রামুতে আইকন পরিবহনের এসি বাসে অগ্নিকাণ্ড, জানালা ভেঙে ৩০ যাত্রী উদ্ধার
22 Aug 2026