বাহুবলে জোড়া খুনের ঘটনার ৬ দিনেও ফিরেনি স্বাভাবিক পরিবেশ, বন্ধ রয়েছে শিক্ষা কার্যক্রম
মো:নূরুল ইসলাম (হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি)
হবিগঞ্জের বাহুবলে রাস্তা নিয়ে বিরোধের জের ধরে কয়েক গ্রামের মাঝে সংঘর্ষে জোড়া খুনের ঘটনার ৬ দিনেও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসেনি। উপজেলার চারটি গ্রামে শুনসান নিরবতা বিরাজ করছে। এমনকি ওই এলাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ মক্তব মাদ্রাসায় শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। দু চারটা বাড়িতে বয়স্ক মহিলা ছাড়া পুরো এলাকা জনমানবশূন্য হয়ে পড়েছে। তবে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাত-দিন পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে। উপজেলার আব্দাফৌজদা, খাসেরগাও, হারিছপুর ও হিলালপুর গ্রামে
সরজমিনে গিয়ে এ দৃশ্য দেখা গেছে। এছাড়া ঘটনার ৬ দিনেও ভুক্তভোগীদের পক্ষ হতে থানায় কোন মামলা দায়ের করা হয়নি।
শনিবার অপরাহ্নে হিলালপুর গ্রামে ঢুকতেই চোখে পড়ে “হিলালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়”। এ বিদ্যালয়ের কচি-কাচা শিক্ষার্থীদের পিনপন নিরবতা অনুভব করে এগিয়ে গিয়ে দেখা যায় শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ বিমর্ষ বদনে অলস সময় কাটাচ্ছেন। আগন্তুক দেখেই তারা নড়েচড়ে বসেন। সাংবাদিক পরিচয় জানতে পেরে তাদের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি ফিরে আসে।
এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষিকা পনা রাণী দেব দীর্ঘ কয়েকদিন ধরে তাদের উৎকন্ঠার কথা উল্লেখ করে বলেন, ” অতীত জীবনে কর্মক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতির মুখে পড়িনি, ১৫ জুন ঘটনার পরদিন হতে বিদ্যালয় শিক্ষার্থী শূন্য হয়ে পড়ে। অজানা ভয় আর শঙ্কায় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার অনুমতিক্রমে একদিনের সংরক্ষিত ছুটি কাটাই”। তিনি বলেন, “৭ জন শিক্ষক ও ১৮৯ জন শিক্ষার্থীর পদচারণায় যে প্রতিষ্ঠান মুখরিত থাকতো তা এখন নেই। গ্রেফতার আতঙ্কে এলাকার নারী-পুরুষ ঘর তালাবদ্ধ করে নিরাপদে চলে যাওয়ায় এলাকায় বিরাজ করছে ভীতিকর পরিবেশ”। কবে নাগাদ এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরন ঘটবে কে জানে।
এসময় হিলালপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসাও বন্ধ পাওয়া যায়। এক পর্যায়ে দেখা মিলে টহল পুলিশের দায়িত্বে থাকা এসআই মামুনের। তিনি জানান, এলাকায় অবস্থানরত পুলিশ টিমের জন্য দুপুরের খাবার নিয়ে এসেছিলেন। এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সিফটওয়ারি পুলিশ অবস্থান করছে।
আব্দাফৌজদা গ্রামের প্রবেশ মুখে সঙ্গীয় ফোর্স সহ দায়িত্বেরত এসআই সৌরভ জানান, ঘটনার পর হতে এলাকায় পুলিশ অবস্থান নিয়েছে। আলাদাভাবে পুলিশের টহল টিমও রয়েছে। যে কোন পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ সতর্কমূলক অবস্থায় রয়েছে। তিনি জানান, কিছু কিছু বাড়িতে বয়স্ক মহিলারা আছেন। বাড়ি-ঘরে লোকজন না থাকায় পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৫ জুন দুপুর ও সন্ধায় স্থানীয় একটি কবরস্থানের পাশে রাস্তা নিয়ে বিরোধের জের ধরে আদিত্যপুর ও আব্দাফৌজদা গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এক পর্যায়ে পাশ্ববর্তী খাসেরগাও, হারিছপুর ও হিলালপুর গ্রামের লোকজন আব্দাফৌজদা গ্রামের পক্ষ নেয়। ওইদিন সন্ধ্যায় স্থানীয় ডুবাঐ বাজারে উভয় পক্ষের লোকজন পুনরায় সংঘর্ষে লিপ্ত হন। এতে আদিত্যপুর গ্রামের ফিরোজ আলীর ছেলে শিলু মিয়া (৪৫) গুরুতর আহত হন। লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অপরদিকে সিলেট নেয়ার পথে রাত সাড়ে ১১টায় একই গ্রামের গাবরু মিয়ার ছেলে হেলাল মিয়া মারা যান।
এ ব্যাপারে বাহুবল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনার মুলহোতা খাসেরগাও গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর মিয়াকে রবিবার ভোর রাতে চট্রগ্রাম এয়ারপোর্টের ভেতর থেকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
মন্তব্য (0)
সম্পর্কিত সংবাদ
সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি) কর্তৃক ৪৬ লক্ষ টাকার চোরাচালানী মালামাল আটক*
22 Aug 2026
সিলেটে চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডার: , আদালতে ঘাতক বাবুলের স্বীকারোক্তি!
22 Aug 2026
কুলাউড়া বাজারে অবৈধ পার্কিংবিরোধী অভিযান, জব্দ ৭ সিএনজি; কারাদণ্ড ১
22 Aug 2026
সুনামগঞ্জ জেলা সদর কুরবান নগর ইউনিয়ন মাইজবাড়ি বদিপুর আজ বিরাট নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে সম্ভাব্য
22 Aug 2026
গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে নিয়মিত এজাহানামীয় ধর্ষণ ও গতকালকের খুনের মামলার আসামী জুবেরকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ
20 Aug 2026