বিরামপুরে শিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়া নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ লিখিত আবেদনেও তদন্তের অগ্রগতি না থাকায় স্থানীয়দের ক্ষোভ**
মোঃ জাকির হাসান জিমি
বিরামপুর উপজেলা প্রতিনিধি
দৈনিক দেশ প্রতিদিন
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার শিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়া পদে নিয়োগে অনিয়ম এবং জাল শিক্ষাসনদ ব্যবহারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও দীর্ঘ সময় পার হলেও দৃশ্যমান কোনো তদন্ত বা কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩-৪ বছর আগে বিদ্যালয়ের আয়া পদে নিয়োগপ্রাপ্ত লাকি আক্তারের বিরুদ্ধে চাকরি লাভের সময় শিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণের একটি শিক্ষাসনদ ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি প্রকৃতপক্ষে ওই বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলেন না। এছাড়া অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি ও তৎকালীন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় চাকরি নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্তে সত্যতা নিশ্চিত হয়নি।
এ বিষয়ে দিওড় ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম দিনাজপুরের উপ-পরিচালক (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা), জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগে তিনি দাবি করেন, বিদ্যালয়ের ভর্তি রেজিস্টার, হাজিরা রেজিস্টার, পরীক্ষার ফলাফলের রেকর্ড ও সনদ ইস্যু রেজিস্টার যাচাই করলে অভিযোগের সত্যতা উদঘাটন সম্ভব হবে। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও আবেদন জানিয়েছেন।
অভিযোগকারী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত বা দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযুক্ত ব্যক্তি এখনও চাকরিতে বহাল রয়েছেন।”
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের ভাষ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ সংক্রান্ত অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে জনমনে আস্থাহীনতা তৈরি হবে এবং দুর্নীতিকে উৎসাহিত করবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত লাকি আক্তারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে শিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতিয়ার রহমান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও সংবাদ লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য (0)
সম্পর্কিত সংবাদ
পাঁচবিবি উপজেলার আওলাই ইউনিয়নে বিএনপির নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার শুভ উদ্বোধন
22 Aug 2026
লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে চুরি ছিনতাই কারী সিন্ডিকেট এর হাতে জনগণ জিম্মি
22 Aug 2026
কাজিপুরে যমুনা পার হয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে শ্রদ্ধা নিবেদন
22 Aug 2026
লালমনিরহাটে বখাটেদের আঘাতে আহত- অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী সেই শিক্ষক আরিফুল ইসলামের চির বিদায়
22 Aug 2026
রামুতে আইকন পরিবহনের এসি বাসে অগ্নিকাণ্ড, জানালা ভেঙে ৩০ যাত্রী উদ্ধার
22 Aug 2026