ঠাকুরগাঁওয়ে ফোনে ডেকে নিয়ে জামাইকে হত্যার অভিযোগ, শ্বশুরসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা
মোঃ মিঠু ইসলাম ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি।
ঠাকুরগাঁওয়ে পারিবারিক কলহের জেরে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে এক যুবককে নির্মম ভাবে মারধরের পর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ঠাকুরগাঁও জেলার ভূল্লী উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের কুমারপুর আবদালপাড়া এলাকায়।
নিহত নজরুল ইসলাম ভূল্লী উপজেলার বড়গাঁও ইউনিয়নের কিসমত কেশুরবাড়ী গ্রামের চা-দোকানি মো. হুমায়ুন কবিরের ছেলে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে ছেলের শ্বশুর, স্ত্রীসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ২-৩ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে ভূল্লী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
জানা যায়, কিসমত কেশুরবাড়ী গ্রামের চা-দোকানি মো. হুমায়ুন কবিরের একমাত্র ছেলে মো. নজরুল ইসলাম (২৬) প্রায় পাঁচ বছর আগে প্রেম করে শিরিন আক্তারকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে চার বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। তবে বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে দাম্পত্য ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিষয়টির মীমাংসা হলেও বিরোধের অবসান হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১৮ জুলাই সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে নজরুল ইসলাম নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে স্ত্রী শিরিন আক্তার অন্য একটি নম্বর থেকে ফোন করে তাকে বাবার বাড়িতে যেতে বলেন। স্ত্রীর ডাকে তিনি সেখানে গেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে ঘরের ভেতরে আটকে রেখে মারধর করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, শ্বশুর শাহাজাহান আলী প্রথমে কাঠের শক্ত বাটাম দিয়ে নজরুল ইসলামের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। পরে অন্য আসামীরাও একইভাবে তাকে মারধরে অংশ নেন। মারধরের একপর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে বমি করেন।
এদিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য আরিফুজ্জামান ঈদু খবর পেয়ে দুপুর দেড়টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে নজরুল ইসলামকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা অর্থাভাবে প্রথমে স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসা করান। অবস্থার অবনতি হলে ২২ জুলাই তাকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৩ জুলাই রাত ৮টা ২০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বাবা দাবি করেন, ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে মারধর করা হয়েছে এবং সেই মারধরের আঘাতেই তার মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় শাহাজাহান আলী, শিরিন আক্তার, নুরুল্লা, এনামুল, মান্নান, কাওসার ও শনু কসাইসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ২-৩ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে ভূল্লী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় স্থানীয় ইউপি সদস্য আরিফুজ্জামান (ইদু মেম্বার), হেলাল ইসলাম ও মমিনুল ইসলামকে ঘটনার সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আরও একাধিক সাক্ষী ও প্রমাণ রয়েছে বলেও এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
নিহতের বাবা জানান, নিকটআত্মীয়দের সঙ্গে আলোচনা এবং ছেলের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় থানায় মামলা করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ভূল্লী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে। নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য (0)
সম্পর্কিত সংবাদ
পাঁচবিবি উপজেলার আওলাই ইউনিয়নে বিএনপির নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার শুভ উদ্বোধন
22 Aug 2026
লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে চুরি ছিনতাই কারী সিন্ডিকেট এর হাতে জনগণ জিম্মি
22 Aug 2026
কাজিপুরে যমুনা পার হয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে শ্রদ্ধা নিবেদন
22 Aug 2026
লালমনিরহাটে বখাটেদের আঘাতে আহত- অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী সেই শিক্ষক আরিফুল ইসলামের চির বিদায়
22 Aug 2026
রামুতে আইকন পরিবহনের এসি বাসে অগ্নিকাণ্ড, জানালা ভেঙে ৩০ যাত্রী উদ্ধার
22 Aug 2026