কাস্টমস হাউসে কর্মরত আবু রায়হান(৪০) ১৫ টুকরো করা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ
ক্রাইম রিপোর্টার:- (সাংবাদিক মাহমুদ) ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি। ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়ীয়া থানাধীন নিখোঁজের ১০ দিন পর অবশেষে কাস্টমস হাউসে কর্মরত আবু রায়হান তালুকদারের (৪০) ১৫ টুকরা করা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত পুকুরে ভাসতে থাকা তিনটি ব্যাগ ও একটি কাপড়ের পোটলা থেকে গতকাল রোববার বেলা ২ ঘটিকার দিকে মরদেহের খণ্ডিত অংশগুলো উদ্ধার করা হয়।
নিহত আবু রায়হান তালুকদার উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর উত্তর পাড়ার বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে কমলাপুর কাস্টমস হাউসে সিপাহি পদে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিহত রায়হান বিবাহিত ছিলেন কিন্তু কয়েক বছর আগে স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ ঘটে। ঢাকায় চাকরি করলেও তার বৃদ্ধ মাকে দেখতে প্রায় প্রতি সপ্তাহ গ্রামের বাড়িতে আসতেন নিহত রায়হান। রাজু নামে এক কিশোরকে তিনি বাড়িতে রেখে মায়ের দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। এ জন্য রাজুর লেখাপড়ার খরচ ও মাসিক ভাতাও বহন করতেন নিহত রায়হান।
গত ২৩ শে জুলাই ২০২৬ ইং তারিখ রাতে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন আবু রায়হান। পরের দিন শুক্রবার কর্মস্থলে ফেরার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। এরপর আর বাড়ী ফিরে আসেনি ।পরিবারের দাবি, কেয়ারটেকার রাজু ও তার বন্ধু জিতুল তাকে এগিয়ে দেওয়ার কথা বলে সঙ্গে নিয়ে যান। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ধারণা করেছিলেন, তিনি কর্মস্থলে ফিরে গেছেন। কিন্তু ২৬ জুলাই কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ায় তাঁরা নিশ্চিত হন যে তিনি নিখোঁজ। এ সময় তাঁর মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর ২৭ জুলাই রাতে বড় ভাই নূরুল ইসলাম ফুলবাড়িয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির পরদিন, ২৮ জুলাই থেকে বাড়ির কেয়ার টেকার রাজু মির্জাও নিখোঁজ হন। তিনি একই গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ তাঁর অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা শুরু করে। একই সঙ্গে অভিযান চালিয়ে দুপুরের দিকে রাকিবের বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরের একটি পরিত্যক্ত পুকুরে সন্দেহজনক কয়েকটি ব্যাগের সন্ধান পায়। পুকুর থেকে তিনটি ব্যাগ ও বিছানার চাদরে মোড়ানো অবস্থায় মেলে নিখোঁজ কাস্টমস কর্মীর ১৫ টুকরা মরদেহ, যা পঁচে দুগন্ধ ছড়িয়ে পরে।
স্বজনদের অভিযোগ, নিহত রায়হান নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই কেয়ারটেকার রাজু ও তার বন্ধু জিতুল আত্মগোপনে রয়েছেন। তারা দুজনই এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে পরিবারের সদস্যরা সন্দেহ করেন।
ফুলবাড়ীয়া থানার ওসি জনাব রাশেদুল হাসান বলেন, প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে হত্যার পর মরদেহ ১৫ টুকরো করে ব্যাগ ও কাপড়ের পোটলায় ভরে পুকুরে ফেলে রাখা হয়েছিল। কয়েকদিন পানিতে থাকায় পচে ভেসে উঠেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ওসি বলেন, জিডি হওয়ার পর থেকেই বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু আত্মগোপনে থাকায় তাঁকে ঘিরে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তবে হত্যার কারণ এতে কতজন জড়িত এবং তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। তারা গ্রেফতার হলে ঘটনার প্রকৃত মোটিভ সম্পর্কে জানা যাবে।।
মন্তব্য (0)
সম্পর্কিত সংবাদ
পাঁচবিবি উপজেলার আওলাই ইউনিয়নে বিএনপির নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার শুভ উদ্বোধন
22 Aug 2026
লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে চুরি ছিনতাই কারী সিন্ডিকেট এর হাতে জনগণ জিম্মি
22 Aug 2026
কাজিপুরে যমুনা পার হয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে শ্রদ্ধা নিবেদন
22 Aug 2026
লালমনিরহাটে বখাটেদের আঘাতে আহত- অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী সেই শিক্ষক আরিফুল ইসলামের চির বিদায়
22 Aug 2026
রামুতে আইকন পরিবহনের এসি বাসে অগ্নিকাণ্ড, জানালা ভেঙে ৩০ যাত্রী উদ্ধার
22 Aug 2026