সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে ব্যবসায়ী দম্পতি ও তাদের গৃহকর্মীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ
স্টাফ রিপোর্টার মাওঃ তাজউদ্দিন তালুকদার গোয়াইনঘাট সিলেট। বুধবার সকালে মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলা থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন—ব্যবসায়ী ও সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সদস্য আব্দুস সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং তাদের গৃহকর্মী তাহমিনা (২৫)।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগম দীর্ঘদিন ধরে ওই বাসায় বসবাস করছিলেন। তাদের চার সন্তানই দেশের বাইরে থাকেন—দুজন যুক্তরাজ্যে এবং দুজন যুক্তরাষ্ট্রে। ফলে সিলেটের বাসায় বৃদ্ধ দম্পতির সঙ্গে শুধু গৃহকর্মী তাহমিনাই থাকতেন।
বুধবার সকাল ১০টা পর্যন্ত বাসার দরজা বন্ধ থাকায় প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে দরজার নিচ দিয়ে রক্ত বের হতে দেখে তারা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা খুলে বাসার ভেতর থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতদের স্বজনদের দাবি, সকাল ৯টার দিকেও পরিবারের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ছিল। এরপরই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহত আব্দুস সাত্তারের ভাগনে মুন্না মিয়া জানান, তার মামা-মামি ওই বাসায় একাই থাকতেন, সঙ্গে ছিলেন একজন গৃহকর্মী। তার ভাষ্য, আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী সুরাইয়া বেগমের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা থাকলেও আব্দুস সাত্তার দেশের বাইরে যেতে চাননি। তাই তারা সিলেটেই বসবাস করছিলেন।
স্বজনদের দাবি, আব্দুস সাত্তারের হাউজিং ও আইপিসহ বিভিন্ন ব্যবসা ছিল। তবে তার কোনো গুরুতর শত্রু ছিল বলে তারা জানেন না। এ ঘটনায় ৯০ বছর বয়সী একজন বৃদ্ধকে কেন হত্যা করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারাও জানান, আব্দুস সাত্তার এলাকার একজন মুরব্বি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। স্থানীয় কারও সঙ্গে মাঝে মধ্যে মতবিরোধ হলেও তা গুরুতর পর্যায়ের ছিল না।
এদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক ঘটনাস্থলে গিয়ে জানান, পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মদনমোহন কলেজের সামনে তাদের একটি সম্পত্তি রয়েছে এবং ওই সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ থাকতে পারে। তবে বিষয়টি তদন্ত করে নিশ্চিত হতে হবে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম। তিনি জানান, বাসার ওয়ারড্রপ ও আলমারি খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। স্বর্ণসহ মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া গেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ফলে এটি চুরি বা ডাকাতির ঘটনা কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ কমিশনার বলেন, তিনজনকেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনাস্থল থেকে কোনো অস্ত্র উদ্ধার হয়নি।
তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের পেছনে ডাকাতি, পারিবারিক বিরোধ ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধ—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি দলিলও উদ্ধার করা হয়েছে, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেশীদের বরাত দিয়ে পুলিশ কমিশনার জানান, সকালে বাসার ভেতর থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শোনা গিয়েছিল। এতে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডটি বুধবার সকালেই সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে।
ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের বিশেষ দল কাজ করছে। পাশাপাশি পিবিআই ও সিআইডির ক্রাইমসিন টিমও ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করছে।
এদিকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি সেখানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
তিনজনকে কারা এবং কী কারণে হত্যা করেছে—এখনও তা নিশ্চিত নয়। তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মন্তব্য (0)
সম্পর্কিত সংবাদ
সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি) কর্তৃক ৪৬ লক্ষ টাকার চোরাচালানী মালামাল আটক*
22 Aug 2026
সিলেটে চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডার: , আদালতে ঘাতক বাবুলের স্বীকারোক্তি!
22 Aug 2026
কুলাউড়া বাজারে অবৈধ পার্কিংবিরোধী অভিযান, জব্দ ৭ সিএনজি; কারাদণ্ড ১
22 Aug 2026
সুনামগঞ্জ জেলা সদর কুরবান নগর ইউনিয়ন মাইজবাড়ি বদিপুর আজ বিরাট নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে সম্ভাব্য
22 Aug 2026
গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে নিয়মিত এজাহানামীয় ধর্ষণ ও গতকালকের খুনের মামলার আসামী জুবেরকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ
20 Aug 2026