শহীদ আবদুল হামিদ উচ্চ বিদ্যালয়ে ফল বিপর্যয় পাসের হার ২৯.২৫ শতাংশ, শিক্ষার মান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন
তোফাজ্জল হোসাইন,লামা, বান্দরবান প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার দুর্গম জনপদ বমু বিলছড়ি ইউনিয়নের একমাত্র মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আবদুল হামিদ উচ্চ বিদ্যালয়ের এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয় ঘটেছে। বিদ্যালয়টির পাসের হার মাত্র ২৯ দশমিক ২৫ শতাংশ, ১৭৯( একশত উনাশি) জন অকৃতকার্জ এ ফলাফলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের পাশাপাশি পুরো এলাকার সচেতন মহলের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমন ফলাফল উদ্বেগজনক। তারা মনে করছেন, ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্তরিকতা, অভিভাবকদের ভূমিকা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।
তবে বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, বিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম। বিভিন্ন বিদ্যালয়ের অকৃতকার্য শিক্ষার্থী এবং স্বীকৃতিহীন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের এই বিদ্যালয়ের মাধ্যমে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার কারণে এবার ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে বিদ্যালয়কে ঘিরে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
স্থানীয় কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি বলেন, “এই বিদ্যালয়ের খারাপ ফলাফল আমরা কেউ চাই না। এটি আমাদের এলাকার গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ভুল থাকলে তা সংশোধন করতে হবে, ঘাটতি থাকলে পূরণ করতে হবে এবং শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। শহীদ আবদুল হামিদ উচ্চ বিদ্যালয়কে আমরা এলাকার গর্ব ও সম্মানের প্রতীক হিসেবে দেখতে চাই।”
বিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাফল্য শুধু পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভর করে না। শিক্ষার্থীরা কী শিখছে, শিক্ষকরা কতটা আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠদান করছেন, শিক্ষার্থীদের প্রতি কতটা নজর দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের ভবিষ্যৎ গঠনে প্রতিষ্ঠানটি কতটা দায়িত্বশীল—এসব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল মোস্তফা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, “এসএসসি রেজাল্ট নিয়ে আমি খুবই মর্মাহত। প্রচেষ্টার কোনো ঘাটতি ছিল না। তবুও রেজাল্ট মাত্র ২৯.২৫ শতাংশ। ৫ আগস্টের পর থেকে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ায় উদাসীন হয়ে গেছে, সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গার্ডিয়ানদের অবহেলা। শুধু আমাদের নয়, সারা দেশেই রেজাল্ট বিপর্যয় হয়েছে।”
অন্যদিকে বমু বিলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি মনজুরুল কাদের বলেন, “এবারের এসএসসি ফলাফলকে শুধুমাত্র কয়েকজন শিক্ষার্থীর ব্যর্থতা হিসেবে দেখলে চলবে না। বরং এটিকে আত্মসমালোচনা ও আত্মশুদ্ধির একটি সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ফলাফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি আরও দায়িত্বশীল নজরদারি বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।
মন্তব্য (0)
সম্পর্কিত সংবাদ
পাঁচবিবি উপজেলার আওলাই ইউনিয়নে বিএনপির নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার শুভ উদ্বোধন
22 Aug 2026
লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে চুরি ছিনতাই কারী সিন্ডিকেট এর হাতে জনগণ জিম্মি
22 Aug 2026
কাজিপুরে যমুনা পার হয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে শ্রদ্ধা নিবেদন
22 Aug 2026
লালমনিরহাটে বখাটেদের আঘাতে আহত- অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী সেই শিক্ষক আরিফুল ইসলামের চির বিদায়
22 Aug 2026
রামুতে আইকন পরিবহনের এসি বাসে অগ্নিকাণ্ড, জানালা ভেঙে ৩০ যাত্রী উদ্ধার
22 Aug 2026