মসজিদ-এতিমখানা কমিটির নামে দুর্নীতির অভিযোগ, নতুন কমিটি করতে গেলেই থানায় জিডি কলসি কলোনি-নয়াশাল আবাসিক এলাকায় উত্তেজনা: হিসাব-নিকাশ নিয়ে প্রশ্ন, কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগে বাধা দেওয়ার অভিযোগ
মোহাম্মদ ফারুক ইসলাম
নগরীর ৮ নং ওয়ার্ড কলসি কলোনি-নয়াশাল আবাসিক এলাকায় একটি জামে মসজিদ ও এতিমখানা পরিচালনা কমিটিকে ঘিরে উঠেছে নানা অভিযোগ। মসজিদ ও এতিমখানার উন্নয়ন কার্যক্রমের অর্থের হিসাব-নিকাশ, কমিটির স্বচ্ছতা এবং পরিচালনা পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মসজিদ ও এতিমখানার উন্নয়ন এবং বিভিন্ন খাতের অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট হিসাব জানতে চাওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কমিটির পক্ষ থেকে সন্তোষজনক জবাব পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে এলাকাবাসীর একাংশের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। তাদের দাবি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও এতিমখানার অর্থের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকা জরুরি।
অভিযোগকারীদের দাবি, পুরোনো কমিটির কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ সামনে আসার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন মসজিদ ও এতিমখানার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি চেয়ে নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলে কেন থানায় অভিযোগ বা জিডির পরিস্থিতি তৈরি হবে?
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, কমিটির দায়িত্ব ও প্রভাবকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় এক ধরনের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কেউ কমিটির কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুললে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন বাসিন্দা। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।
এদিকে, মসজিদ ও এতিমখানা কমিটির সঙ্গে সরকারি জায়গা দখল এবং জায়গা নিয়ে গোপনে লেনদেনের অভিযোগও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে তোলা হয়েছে। অভিযোগগুলো সত্য কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
অভিযোগ ও বিরোধের মধ্যে স্থানীয়দের একাংশ নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে আলোচনা করেন। সেখানে মসজিদ ও এতিমখানার পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবে নতুন কমিটি গঠনের দাবি ওঠে।
এ সময় স্থানীয়দের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধি হিসেবে মো. ওমর ফারুক রাজু উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। আলোচনায় সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ শুনে বিষয়টি নিয়মতান্ত্রিকভাবে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, মসজিদ ও এতিমখানা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। মুসল্লি, এতিম শিশু ও এলাকাবাসীর স্বার্থে পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি আয়-ব্যয়ের হিসাব পরিষ্কার থাকা উচিত।
তাদের দাবি, মসজিদ ও এতিমখানার নামে অর্থ সংগ্রহ করা হলে সেই অর্থ কোথায়, কীভাবে এবং কোন খাতে ব্যয় করা হয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসীর সামনে উপস্থাপন করতে হবে।
এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরির বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার পাশাপাশি মসজিদ-এতিমখানা কমিটির আর্থিক কার্যক্রম এবং উত্থাপিত অন্যান্য অভিযোগ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
তাদের আরও দাবি, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে সেটিও স্পষ্ট করা হোক।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কোনো পক্ষের প্রভাব বা রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে প্রশাসন দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করবে। একই সঙ্গে মসজিদ ও এতিমখানা পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নিয়মতান্ত্রিক কমিটি গঠন নিশ্চিত করা হবে।
মন্তব্য (0)
সম্পর্কিত সংবাদ
চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ড ০৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জননেতা লায়ন আসলাম চৌধুরী এফ সি এ ২য় কারামুক্তি দিবস পালিত
20 Aug 2026
চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ছাত্রদলের অনুষ্ঠানে থাকছেন সাবেক-বর্তমান নেতৃবৃন্দ
15 Aug 2026
সীতাকুণ্ডে শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে গ্যাস লিকেজে নিহত বেড়ে ৮
15 Aug 2026
সীতাকুণ্ডে ভয়াবহ আগুনে পুড়ল ৭ বসতঘর, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে বিএনপি, জামায়াতের আর্থিক,খাদ্য সামগ্রী বিতরণ
12 Aug 2026
সীতাকুণ্ডে ভয়াবহ আগুনে পুড়ল ৭ বসতঘর, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে বিএনপি, জামায়াতের আর্থিক,খাদ্য সামগ্রী বিতরণ
12 Aug 2026