ছাত্র আন্দোলনে জীবিতকে নিহত দেখিয়ে শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনের নামে এক নারীর মিথ্যা হত্যা মামলা দায়ের
স্টাফ রিপোর্টার, মোঃ ফাহিম চৌধুরী, আশুলিয়া সাভার, ঢাকা
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিতে আল আমিন মিয়া (২২) মারা গেছেন এমন দাবি করে ঢাকার আশুলিয়া থানায় মামলা করেছিলেন কুলসুম বেগম নামে এক নারী।
থানা সূত্র জানায়, গত ২৪ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনকে আসামি করে ঢাকা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি হত্যা মামলা করেন কুলসুম বেগম নামে এক নারী। ওই মামলা গত ৮ নভেম্বর ঢাকার আশুলিয়া থানায় এজাহারভূক্ত হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, অনেক খোঁজাখুঁজি করেও বাদী তার স্বামীকে খুঁজে পাননি। এরপর আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালের ৬ আগস্টের এক প্রতিবেদন থেকে জানতে পারেন, ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অজ্ঞাত বিপুলসংখ্যক লাশ দাফন করেছে। এর কাগজপত্র তার কাছে আছে। এরপর তিনি হাসপাতালের কাগজপত্র, ছবি ও ভিডিও থেকে তার স্বামীর লাশ শনাক্ত করেন।
এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খান, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুছ ছালাম, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, সাবেক ত্রাণ ও দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমানসহ ১৩০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।
এদিকে সম্প্রতি মামলার বিষয়টি জানতে পারে আল আমিন মিয়ার পরিবার। তার পরিবার জানায়, তাদের গ্রামের বাড়ি লালমনিরহাটে। তবে দীর্ঘ দিন ধরে পরিবারসহ তারা সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার পিরিজপুর এলাকায় বাস করছেন। আল আমিন পেশায় মেকানিক। কাজের সূত্রে গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে স্ত্রীসহ জুড়িতে ছিলেন তিনি। তবে এর কয়েক দিন পরই স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক কলহ বাধে আল আমিনের। এরপর স্ত্রী তাকে না জানিয়েই মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার সিংজুরিতে তার বাবার বাড়ি চলে আসেন। এরপর থেকে আর যোগাযোগ ছিল না তাদের।
মঙ্গলবার রাতে আশুলিয়া থানায় বসে কথা হয় আল আমিন মিয়া ও তার পরিবারের সঙ্গে। ওই মামলার এক আসামি আমাকে ফোন করে জানায় বিষয়টি। আমি ওখানে আমার নিকটস্থ সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানায় যাই, সেখানে একটা জিডি করি। সেখানকার ওসি আমাদের এই আশুলিয়া থানায় পাঠায়।
আমি বলতে চাই, আমি জীবিত আছি। আমার স্ত্রী মিথ্যা মামলা করেছে। আমি মারা যাইনি। আমি এই মামলা প্রত্যাহার করতে চাই।
তার বাবা মো. নুরুন নবী বলেন, আমার ছেলে মারা যায়নি। সে জীবিত আছে। মিথ্যা মামলা করেছে তার স্ত্রী। এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হোক।
আশুলিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) কামাল হোসেন বলেন, যেহেতু তিনি মিথ্যা মামলা করেছেন, তাই বাদীর বিরুদ্ধে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব। আল আমিনকে বিজ্ঞ আদালতে উপস্থাপন করে মিথ্যা মামলার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়ায় যাব।
মন্তব্য (0)
সম্পর্কিত সংবাদ
চামড়া শিল্পনগরী ও ঢাকার নিরাপত্তা জোরদারে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (BTA)-এর পক্ষ থেকে শিল্পনগরী পুলিশ ফাঁড়িতে পিকআপ ভ্যান উপহার
11 Aug 2026
মানবতার সেবায় পাঁচ বছরের গৌরবময় পথচলা: পুরাপাড়া ইউনিয়ন অনার্স ক্লাব ব্লাড ব্যাংকের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
04 Aug 2026
*নগরকান্দা-সালথার উন্নয়নে একের পর এক মেগা প্রকল্প: বাস্তবায়নের পথে দৃশ্যমান অগ্রগতি**
04 Aug 2026
নগরকান্দায় নারী শিক্ষার অগ্রযাত্রায় আবুল হোসেন মিয়ার অনন্য অবদান
04 Aug 2026
আইজিপির সঙ্গে এফবিআই প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ
03 Aug 2026