ওসমানীনগরে কুশিয়ারা পাড়ের গ্রামবাসী নদী ভাঙ্গনে দিশেহারা
ওসমানীনগর (সিলেট) সংবাদদাতা: সিলেটের ওসমানীনগরে বন্যার পানি কমতে শুরু করায় এলাকাবাসীর মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে সেই স্বস্তির মাঝেও নতুন করে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ—কুশিয়ারা নদীর প্রবল স্রোতের কারণে নদীভাঙনের আশঙ্কা চরমে পৌঁছেছে। নদীপারের বিভিন্ন গ্রাম ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ইতোমধ্যেই ভাঙনের কবলে পড়েছে, যার ফলে এলাকাবাসী পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।

ইতোমধ্যে কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে একাধিক গ্রামের বসতঘর, গাছপালা এবং নানা স্থাপনা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাদীপুর ইউনিয়নের খছরুপুর, শেরপুর এবং লামা তাজপুর এলাকা। এসব এলাকার বহু পরিবার ইতোমধ্যে বসতভিটা হারিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে গেছে । ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে মসজিদ, ফসলি জমি সহ অন্যান্য স্থায়ী ও অস্থায়ী ঘরবাড়ি।
শেরপুর বাজারের পুরাতন লঞ্চঘাটের সংলগ্ন মার্কেট ও দোকানপাট এবং পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নের আলীপুর এলাকাও রয়েছে তীব্র ভাঙনের হুমকিতে। এলাকাবাসী জানান, কয়েক বছর ধরে কুশিয়ারা নদীর তীব্র স্রোতে নীরবভাবে ভাঙন চললেও সম্প্রতি বর্ষার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে নদীর স্রোত আরও তীব্র হয়ে উঠেছে, ফলে ভাঙনের মাত্রাও বেড়ে গেছে।
নদী ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) পূর্বে আলীপুর ও লামা তাজপুর এলাকায় জিও ব্যাগ ও ব্লক দিয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও তা যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বর্ষার পানির চাপে ও নদীর প্রবল স্রোতে সেইসব ব্যবস্থা কার্যকরভাবে টিকতে পারছে না।
আলীপুর ও লামা তাজপুর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক কাঁচা ও পাকা ঘরবাড়ি, মসজিদ ও ফসলি জমি এখন সরাসরি নদীভাঙনের মুখে। নদীর ধার ঘেঁষে থাকা আলীপুর গ্রামের বুক চিরে এখন বয়ে যাচ্ছে খরস্রোতা কুশিয়ারা নদী। এক সময় গ্রামের যে অংশ নদীর পাড়ে ছিল, এখন তা নদীর মাঝখানে বিভক্ত হয়ে গেছে। স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক বছরে প্রায় এক কিলোমিটার জুড়ে বসতবাড়ি, পাকা দালান, ফসলি জমি ও নানা স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোর বাসিন্দারা দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, প্রয়োজনীয় বাঁধ, স্থায়ী ব্লক বসানো, নদীশাসন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না নিলে আরও অনেক ঘরবাড়ি, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিলীন হয়ে যাবে।
ওসমানীনগরের কুশিয়ারা নদীর ভাঙন প্রতিরোধে যদি দ্রুত ও সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। মানবিক বিপর্যয় এড়াতে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মন্তব্য (0)
সম্পর্কিত সংবাদ
গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান- শনিবার|| ২০২৬|
22 Aug 2026
বটিয়াঘাটার পুরোনো ফেরিঘাটে মিললো অজ্ঞাত নারীর লাশ
21 Aug 2026
চরফ্যাশনে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদযাপন: আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত
16 Aug 2026
রামুতে সবুজায়নের অভিযাত্রা: ১৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মৈত্রী-০২-এর ১০ হাজার চারা বিতরণ
13 Aug 2026
কুলাউড়া সীমান্তের ওপারে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত
10 Aug 2026