জমি দখলের উন্মত্ততা: ‘হত্যার চেষ্টায়’ ধারালো অস্ত্রের আঘাত!
এজাহারভুক্ত ৬ আসামীকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে উত্তাল তেওতা— ৩ দিন পরেও গ্রেফতার নেই; বিচারহীনতার প্রতিবাদে ফুঁসছে শিবালয়ের জনগণ —
দৈনিক দেশ প্রতিদিন, বিশেষ প্রতিবেদন
শিবালয়, মানিকগঞ্জ, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫
পৈত্রিক জমি জবরদখলকে কেন্দ্র করে মানিকগঞ্জের শিবালয়ের ষাইটঘর তেওতা এলাকায় গত ২৫ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে, বিকাল ৩:০০ ঘটিকায় সংঘটিত এক বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে তেওতা ইউনিয়ন। এই হামলায় এক পরিবারের পাঁচ সদস্য গুরুতর আহত হওয়াসহ হাত ভাঙার মতো জখম নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হামলার মূল পরিকল্পনাকারীসহ এজাহারভুক্ত ৬ জন আসামীকে অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আজ তেওতা ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। ভুক্তভোগী মো. আজিজ খান-এর পরিবার ও এলাকাবাসী অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানান।
১. হামলার নৃশংসতায় ভাঙলো হাত, রক্ত ঝরলো ৫ জনের
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, নারায়ন তেওতা এলাকার বাসিন্দা মো. আজিজ খান ও আসামীপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এই জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জেরেই গত ২৫ নভেম্বর বিকেলে আসামীরা সংঘবদ্ধভাবে বাদীর দখলে থাকা জমি জবরদখলের উদ্দেশ্যে হামলা চালায়।
বাদী মো. আজিজ খান ও তার পরিবার বাধা দিতে গেলে আসামীরা দা, লাঠি ও লোহার রড-এর মতো মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের ওপর আক্রমণ করে। এজাহারে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই হামলায় বাদী মো. আজিজ খান, তার বড় ভাই, মেঝো ভাই, বড় ভাবী এবং মেঝো ভাবীসহ পাঁচজনই গুরুতরভাবে আহত হন। এদের মধ্যে একজন সদস্যের হাত ভেঙে যায় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। আঘাতের তীব্রতা ইঙ্গিত করে যে, আসামীদের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভুক্তভোগীকে প্রাণে মেরে ফেলা। অতপর স্থানীয়দের তৎপরতায় আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
এজাহার অনুযায়ী অভিযুক্ত ছয় আসামী হলেন: ১। মো. সিরাজুল ইসলাম, ২। মোঃ আবুল হোসেন, ৩। সাইফুল্লাহ, ৪। রিনা আক্তার, ৫। ইমরান খান এবং ৬। মতিন খান।
২. বিচারহীনতার সংস্কৃতি নিয়ে ক্ষোভ
এই হামলা সংঘটিত হওয়ার তিন দিন পরও এজাহারভুক্ত আসামীরা প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা।
ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী পরিবারের এক সদস্য আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন: “ঘটনার তিন দিন পার হতে চললেও এবং এজাহারে সুনির্দিষ্টভাবে এই ৬ জন অপরাধীর নাম-ঠিকানা উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও কেন তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে? যাদের হাতে আমাদের পরিবারের সদস্যদের হাত ভেঙেছে, যারা আমাদের জীবন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে এবং তারা আমাদের ক্রমাগত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি আমাদের পরিবারকে চরম আতঙ্কে নিক্ষেপ করেছে। আমরা চাই, পুলিশ অবিলম্বে তাদের গ্রেফতার করুক।”
উপস্থিত সামাজিক সংগঠন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এতো গুরুতর আঘাত, বিশেষ করে নারী সদস্যদের ওপর এমন সহিংসতা নিঃসন্দেহে আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এই এলাকায় বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করার আহ্বান জানান।
মন্তব্য (0)
সম্পর্কিত সংবাদ
গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান- শনিবার|| ২০২৬|
22 Aug 2026
বটিয়াঘাটার পুরোনো ফেরিঘাটে মিললো অজ্ঞাত নারীর লাশ
21 Aug 2026
চরফ্যাশনে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদযাপন: আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত
16 Aug 2026
রামুতে সবুজায়নের অভিযাত্রা: ১৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মৈত্রী-০২-এর ১০ হাজার চারা বিতরণ
13 Aug 2026
কুলাউড়া সীমান্তের ওপারে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত
10 Aug 2026