সুবিপ্রবির স্থায়ী ক্যাম্পাস ও প্রশাসন নিয়ে নতুন বিতর্ক শিক্ষামন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি
আসিফ বিল্লাহ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সুবিপ্রবি) স্থায়ী ক্যাম্পাসের অবস্থান নির্ধারণ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আলোচনা। এ পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অপসারণ এবং সদর উপজেলায় স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপনের দাবিতে শিক্ষামন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে ‘সুবিপ্রবি স্থায়ী ক্যাম্পাস সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় বাস্তবায়ন কমিটি’।
বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানের মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এ স্মারকলিপি পাঠানো হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্যের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক দুর্বলতা, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের প্রভাব বৃদ্ধির অভিযোগ আনা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নিয়োগ কার্যক্রমে স্থানীয় মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। অভিযোগ অনুযায়ী, অনেক আবেদনকারী সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণের সুযোগ না পেলেও বিশেষ গোষ্ঠীর প্রার্থীরা সুবিধা পাচ্ছেন। ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমে সক্রিয় না থেকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এককভাবে গ্রহণ করছেন বলেও অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত উপেক্ষা করা হচ্ছে।
স্থায়ী ক্যাম্পাসের স্থান নির্বাচন নিয়েও স্মারকলিপিতে আপত্তি জানানো হয়। আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, শুরু থেকে সদর উপজেলা ও শান্তিগঞ্জ—উভয় স্থান নিয়েই আলোচনা থাকলেও বর্তমানে কেবল শান্তিগঞ্জকে কেন্দ্র করেই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তারা মনে করেন, জেলার কেন্দ্রস্থল হওয়ায় সদর উপজেলায় ক্যাম্পাস স্থাপন করলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষের জন্য যোগাযোগ ও প্রশাসনিক সুবিধা নিশ্চিত হবে।
প্রস্তাবিত স্থানের পরিবেশগত ঝুঁকির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে স্মারকলিপিতে। এতে বলা হয়, হাওরাঞ্চলের ভেতরে বৃহৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণ করলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য, জীববৈচিত্র্য এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই পরিবেশ সুরক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের স্বার্থে সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের যোগীরগাঁও মৌজায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের দাবি জানানো হয়।
আন্দোলনকারীরা আরও অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে স্থায়ী ক্যাম্পাস বাস্তবায়নের দাবির প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিনের দাবিকে সামনে রেখে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আন্দোলনের প্রস্তুতি দেখা দিয়েছে।
স্মারকলিপি জমা দেওয়ার সময় জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, আইনজীবী, ছাত্রনেতা এবং বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তবে স্মারকলিপিতে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য (0)
সম্পর্কিত সংবাদ
গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান- শনিবার|| ২০২৬|
22 Aug 2026
বটিয়াঘাটার পুরোনো ফেরিঘাটে মিললো অজ্ঞাত নারীর লাশ
21 Aug 2026
চরফ্যাশনে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদযাপন: আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত
16 Aug 2026
রামুতে সবুজায়নের অভিযাত্রা: ১৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মৈত্রী-০২-এর ১০ হাজার চারা বিতরণ
13 Aug 2026
কুলাউড়া সীমান্তের ওপারে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত
10 Aug 2026