এভাবে হাসপাতাল চলতে পারে না’- আকস্মিক টাঙ্গাইল মেডিকেল পরিদর্শনে ক্ষোভ প্রতিমন্ত্রী টুকুর
আনোয়ার হোসেন সজীব (টাঙ্গাইল জেলা ক্রাইম রিপোর্টার)
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শন করে অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও সেবার মান নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুর ২টার দিকে ঢাকা থেকে সরাসরি হাসপাতালে পৌঁছে তিনি বিভিন্ন ওয়ার্ড, জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ ও শৌচাগার পরিদর্শন করেন। এ সময় রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে হাসপাতালের সার্বিক সেবা, পরিচ্ছন্নতা, ওষুধ সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে খোঁজ নেন।
পরিদর্শনের সময় ৩৩৫ জন চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফের মধ্যে অর্ধশতাধিকের বেশি কর্মীকে অনুপস্থিত দেখতে পান প্রতিমন্ত্রী। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. কামরুল কিবরিয়াকে তাৎক্ষণিকভাবে শোকজের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের জন্য সব ধরনের ছুটি বাতিলের নির্দেশনা দেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘কারও যদি এখানে চাকরি করতে ইচ্ছে না হয়, তাহলে অন্য জায়গায় চলে যাবে।’
প্রতিমন্ত্রীর আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা তাকে ঘিরে ধরেন। তারা হাসপাতালের নানা অনিয়ম, ভোগান্তি, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ধরেন। এসব অভিযোগ শোনার পর প্রতিমন্ত্রী হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এটি প্রায় পরিত্যক্ত ঘোষণার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।
পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের শৌচাগারের নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। পরে হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুসের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাখ্যা চান এবং হাসপাতালকে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঢেলে সাজানোর নির্দেশ দেন।
এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। হাসপাতালে কীভাবে মাদকসেবী ও বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ ঘটছে, সে বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি হাসপাতালের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশনা দেন।
পরিচালককে উদ্দেশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘হঠাৎ করে পরিদর্শনে আসার উদ্দেশ্যই ছিল প্রকৃত অবস্থা দেখা। আমরা এটাকে উন্নত করব, জায়গা আছে। কিন্তু ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে হবে। হাসপাতালে যদি নেশা বা মাদক গ্রহণের পরিবেশ থাকে, তাহলে সেটা আর হাসপাতাল থাকে না। এতে কেউ নিরাপদ নয়, রোগীরাও অনিরাপদ। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ঘিরে অনেক অনিয়মের অভিযোগ ছিল। আকস্মিক পরিদর্শনে এসে সেগুলোর সত্যতা পেয়েছি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও অনিয়ম দূর করে মানুষের জন্য উন্নত সেবা নিশ্চিত করা হবে। যারা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুব হাসান, প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব মোঃ আবুবকর সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এইচ এম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মিয়া, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পাল ও টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন।
মন্তব্য (0)
সম্পর্কিত সংবাদ
চামড়া শিল্পনগরী ও ঢাকার নিরাপত্তা জোরদারে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (BTA)-এর পক্ষ থেকে শিল্পনগরী পুলিশ ফাঁড়িতে পিকআপ ভ্যান উপহার
11 Aug 2026
মানবতার সেবায় পাঁচ বছরের গৌরবময় পথচলা: পুরাপাড়া ইউনিয়ন অনার্স ক্লাব ব্লাড ব্যাংকের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
04 Aug 2026
*নগরকান্দা-সালথার উন্নয়নে একের পর এক মেগা প্রকল্প: বাস্তবায়নের পথে দৃশ্যমান অগ্রগতি**
04 Aug 2026
নগরকান্দায় নারী শিক্ষার অগ্রযাত্রায় আবুল হোসেন মিয়ার অনন্য অবদান
04 Aug 2026
আইজিপির সঙ্গে এফবিআই প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ
03 Aug 2026