সংকট-সম্ভাবনায় রাতারগুল: ECA ঘোষণার দাবি, একইসাথে বৃক্ষরোপণ ও নতুন ফি
*নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট গোয়াইনঘাট
*সিলেট গোয়াইনঘাট রাতারগুল* দেশের একমাত্র মিঠাপানির সোয়াম্প ফরেস্ট সিলেটের রাতারগুল এখন সংকট ও সম্ভাবনার মোহনায়। একদিকে অবৈধ বালু উত্তোলন ও দূষণে “বাংলার অ্যামাজন” হুমকির মুখে। অন্যদিকে পর্যটন বাড়ছে, হচ্ছে বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান।
গত ১০ মে রবিবার গোয়াইনঘাট উপজেলার রাতারগুল গ্রামের মাঝেরঘাটে গ্রামীণ নাগরিক সভায় রাতারগুলকে “বাস্তুসংকটাপন্ন বা প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা” ঘোষণার জোর দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা।
পরিবেশবাদী সংগঠন “ধরিত্রী রক্ষায় আমরা – ধরা” এর উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, রাতের আঁধারে রাতারগুল-লাগোয়া চেঙ্গেরখাল নদী থেকে একটি চক্র মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। এতে ৫০৪ একরের জলাবনে ভাঙন শুরু হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ধরা সিলেটের আহ্বায়ক ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী। মূল বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল করিম কিম। তিনি বলেন, “একটি বালুখেকো চক্র প্রায় প্রতি রাতেই রাতারগুল জলাবনের পাশের নদী থেকে মেশিন ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে নদীভাঙন শুরু হয়েছে, যা জলাবনের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে”।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি গোলাম সোবহান চৌধুরী বলেন, “সরকার সম্প্রতি সাদাপাথর, বিছনাকান্দি ও শাহ আরেফিনসহ কয়েকটি এলাকাকে ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া ঘোষণার উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু সেখানে রাতারগুলের নাম নেই। প্রয়োজন হলে এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার সুযোগ রয়েছে”।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে ৩৮ দিন আগে রাতারগুলের মাঝেরঘাটে অর্ধশতাধিক গাছ লাগানো হয়। একইসাথে বন ও বনসংলগ্ন এলাকা থেকে ৫ বস্তার বেশি প্লাস্টিক-পলিথিন বর্জ্য সংগ্রহ করে ধ্বংস করা হয়। ধরা সিলেট ও পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি হয়।
গত ৯ মে রাতারগুল থেকে প্রায় ২০০টি অবৈধ প্লাস্টিকের “ইছাকুইন” ফাঁদ উদ্ধার করে আগুনে পুড়িয়ে দেন স্থানীয়রা ও পরিবেশবাদীরা। এসব ফাঁদে মাছের পোনা, চিংড়ি ও জলজ প্রাণী আটকা পড়ে মারা যায়।
*নতুন ফি কাঠামো*
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় রাতারগুল বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকার জন্য নতুন ফি নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কের প্রবেশ ফি ৫০ টাকা, ছাত্র ২৫ টাকা, বিদেশি ৫০ টাকা। নৌকা ভ্রমণে দেশি ১০ টাকা, বিদেশি ১০ টাকা। ফিল্মিংয়ের জন্য প্রতি ক্যামেরা ১০ হাজার টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
বন্যার পানি কমে যাওয়ায় রাতারগুল পর্যটনকেন্দ্র আবার পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে।
: মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, “জলবায়ু সংকট থেকে রক্ষা পেতে বৃক্ষরোপণ ও বন সংরক্ষণ সবচেয়ে কার্যকর উপায়। বাংলাদেশের জন্য অন্তত ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকার কথা থাকলেও প্রকৃতপক্ষে এর তিন ভাগের এক ভাগও নেই”।
পরিবেশবাদীদের দাবি, দ্রুত ECA ঘোষণা ও কঠোর নজরদারি না হলে দেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবন তার ঐতিহ্য হারাবে।
মন্তব্য (0)
সম্পর্কিত সংবাদ
গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান- শনিবার|| ২০২৬|
22 Aug 2026
বটিয়াঘাটার পুরোনো ফেরিঘাটে মিললো অজ্ঞাত নারীর লাশ
21 Aug 2026
চরফ্যাশনে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদযাপন: আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত
16 Aug 2026
রামুতে সবুজায়নের অভিযাত্রা: ১৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মৈত্রী-০২-এর ১০ হাজার চারা বিতরণ
13 Aug 2026
কুলাউড়া সীমান্তের ওপারে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত
10 Aug 2026