বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী: ফুলবাড়িয়া বিএনপিতে তিন বলয়ের পৃথক দোয়া মাহফিল:
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি মোঃলাইজুস সারোয়ার(শরীফ)
ফুলবাড়িয়া, ময়মনসিংহ: একসময় রাজনৈতিক প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর ছিল ফুলবাড়িয়া। সভা-সমাবেশ, মিছিল-স্লোগান আর নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতিতে স্থানীয় রাজনীতির মাঠ থাকত জমজমাট। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র কি বদলে যাচ্ছে? দলের ভেতরেই যখন একাধিক নেতৃত্বের বলয় তৈরি হয়, তখন সাধারণ কর্মী-সমর্থক ও ভোটাররা কোন নেতৃত্বের সঙ্গে থাকবেন—সেই প্রশ্নও সামনে আসছে।
এরই মধ্যে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে ফুলবাড়িয়ায় তিনটি পৃথক রাজনৈতিক গ্রুপের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল আয়োজনের ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই দলের পক্ষ থেকে একই উপলক্ষে একাধিক গ্রুপের পৃথক কর্মসূচি—এটি কি নিছক সাংগঠনিক বৈচিত্র্য, নাকি তৃণমূলের বিভাজনেরই প্রতিফলন?
ফুলবাড়িয়ার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তৃণমূল পর্যায়ে বিভাজন স্পষ্ট—এমন অভিযোগও রয়েছে। আক্তারুল আলম ফারুক, মামুনুর রশিদ কিংবা আব্দুল করিম সরকারকে ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে যে বিভিন্ন সমীকরণের কথা আলোচিত হয়, তা কি কেবল ব্যক্তিগত মতপার্থক্য? নাকি এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের নেতৃত্বকেন্দ্রিক টানাপোড়েন?
একই দলের ব্যানারে থেকেও নেতাকর্মীরা যখন ভিন্ন ভিন্ন বলয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েন, তখন তার প্রভাব সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে শুরু করে নির্বাচনী মাঠ পর্যন্ত পড়তে পারে। ভোটাররা যখন দলের ভেতরেই ঐক্যের ঘাটতি দেখতে পান, তখন দলীয় প্রতীক ও নেতৃত্বের প্রতি তাঁদের আস্থায়ও কি প্রশ্ন তৈরি হয় না?
মাঠপর্যায়ে আরও একটি অভিযোগ শোনা যায়—কেউ প্রকাশ্যে এক নেতার সঙ্গে থাকলেও নেপথ্যে অন্য বলয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যাচাই হওয়া জরুরি। কারণ রাজনৈতিক মতপার্থক্য গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ হলেও তা যদি ব্যক্তিগত বিরোধ ও গ্রুপিংয়ে রূপ নেয়, তাহলে সাংগঠনিক শক্তি দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।
প্রশ্ন হচ্ছে, দলের নীতিনির্ধারকদের কাছে তৃণমূলের এই বাস্তব চিত্র কতটা পৌঁছাচ্ছে? মাঠের কর্মীরা যদি নেতৃত্বের বিভাজন নিয়ে হতাশ হন, তাহলে সেই হতাশা কি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলবে না?
ফুলবাড়িয়ার সচেতন মহলের অনেকের মতে, একটি রাজনৈতিক দলের প্রকৃত শক্তি শুধু শীর্ষ নেতৃত্বে নয়; তৃণমূলের ঐক্য, কর্মীদের আস্থা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে দলের নিবিড় সম্পর্কই সেই শক্তির মূল ভিত্তি। ফলে একই দলের কর্মসূচিও যদি একাধিক বলয়ে বিভক্ত হয়ে যায়, তাহলে তা স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
রাজনীতির লক্ষ্য যদি হয় মানুষের আস্থা অর্জন ও জনকল্যাণে কাজ করা, তাহলে ব্যক্তিকেন্দ্রিক কোন্দল ও গ্রুপিং সেই লক্ষ্যকে কতটা এগিয়ে নিতে পারে? নাকি এখন প্রয়োজন বিভাজনের বদলে সমন্বয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতার বদলে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে সংগঠনের বৃহত্তর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া?
ফুলবাড়িয়ার বিএনপির রাজনীতি তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মুখোমুখি—তিনটি গ্রুপের পৃথক কর্মসূচি কি কেবল নেতৃত্বের ভিন্নতা, নাকি তৃণমূলের বিভাজনের দৃশ্যমান প্রতিচ্ছবি?
উত্তর হয়তো মাঠের নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের কাছেই রয়েছে। তবে প্রশ্নটি থেকেই যায়—ব্যক্তিগত কোন্দল ও গ্রুপিংয়ের কাছে কি রাজনীতির মূল লক্ষ্য নতি স্বীকার করছে?
মন্তব্য (0)
সম্পর্কিত সংবাদ
তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে ময়মনসিংহের, ভালুকাতে ২০টি শিল্পকারখানার শ্রমিকদের ছুটি দেয়া হয়েছে
21 Aug 2026
ফুলবাড়িয়ায় বিএনপির রাজনীতিতে তিন বলয়:তৃণমূলে বিভাজনের আক্ষেপ:
15 Aug 2026
ফুলবাড়ীয়ায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারি নিয়ে তোলপাড়:
13 Aug 2026
মাঠে থাকুক তারুণ্য, দূরে থাকুক মাদক ও অনলাইন জুয়া
11 Aug 2026
ফুলবাড়িয়ায় তারুণ্যের মাঝে ফুটবল বিতরণ: মাদক ও জুয়ামুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়
11 Aug 2026