জামালগঞ্জে সুরমা নদীর ওপর সেতু নির্মাণে আশার আলো উচ্ছ্বসিত স্থানীয় বাসিন্দারা
আসিফ বিল্লাহ , সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :
দীর্ঘদিন ধরে ফেরিনির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে জামালগঞ্জ উপজেলার হাজারো মানুষকে। অবশেষে সেই দুর্ভোগের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। সাচনা- জামালগঞ্জ সুরমা নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রায় ২৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য এ সেতু বাস্তবায়িত হলে যোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ কামলাবাজ এবং সাচনা বাজার ইউনিয়নের উত্তর কামলাবাজ গ্রামের মধ্যবর্তী সুরমা নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হবে। এটি ‘হাওর এলাকায় উড়াল সড়ক ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন করা হবে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বছরের পর বছর ধরে ফেরির ওপর নির্ভর করে নদী পারাপার করতে গিয়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাদের। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
নয়াহালট গ্রামের বাসিন্দা শহিদ মিয়া বলেন, “ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি এখানে সেতু হবে। কিন্তু বাস্তবে কিছুই দেখিনি। এখন যদি সত্যিই সেতু নির্মাণ হয়, তাহলে আমাদের এলাকার মানুষের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আসবে।”
সাচনা বাজার ইউনিয়নের কৃষক নুরুল হক বলেন, “হাওরে উৎপাদিত ধান ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারে নিতে আমাদের অনেক সময় ও খরচ হয়। সেতু হলে পরিবহন ব্যয় কমবে, কৃষকরাও লাভবান হবেন।”
সাচনা বাজারের ব্যবসায়ী রাজন দে বলেন, “ব্যবসার কাজে প্রতিদিন নদী পার হতে হয়। ফেরির জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে অনেক সময় নষ্ট হয়। সেতু নির্মাণ হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি বাড়বে এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।”
স্থানীয় গৃহিণী রহিমা বেগম বলেন, “রাতে কেউ অসুস্থ হলে সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয়। ফেরি না থাকলে হাসপাতালে নিতে অনেক সমস্যা হয়। সেতু হলে রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া যাবে।”
ধর্মপাশা উপজেলার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম বলেন, “এই সেতু শুধু জামালগঞ্জের জন্য নয়, ধর্মপাশার মানুষের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। সুনামগঞ্জ শহরে যাতায়াতের সময় অনেক কমে যাবে।”
এদিকে এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, সেতু নির্মাণের দরপত্র মূল্যায়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বিষয়টি সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন মিললে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।
সুনামগঞ্জ জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “প্রকল্পের প্রয়োজনীয় কারিগরি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ক্রয় কমিটির অনুমোদন পেলেই পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বহু প্রতীক্ষিত এই সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত শুরু হবে এবং বাস্তবায়নের মাধ্যমে হাওরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট দূর হবে।
মন্তব্য (0)
সম্পর্কিত সংবাদ
বিদ্যুৎ সংকটে গংগাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন- কাজী মোঃ রিদওয়ানুল বারী জিয়ন
20 Aug 2026
দুই বছরে রংপুরে ৪ জেলা প্রশাসক বদলি, ক্ষোভ-অসন্তোষ
20 Aug 2026
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় এনএসআই পরিচয়ে বিয়ের অভিযোগে এক ব্যক্তি গ্রেফতার
19 Aug 2026
পীরগঞ্জে ৩২ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক
22 Jun 2026
মাদারগঞ্জের প্রশাসনকে ম্যানেজ করে আশ্রয়ণ পুকুরে বালু উত্তোলন দিনে-রাতে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি টাকা
16 Jun 2026